হজের ৫ দিনে কী কী করতে হয়? ৮ থেকে ১২ জিলহজের পূর্ণাঙ্গ আমল ও করণীয়
হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। হজ পালনের সময় নির্দিষ্ট দিন ও স্থানে নির্দিষ্ট কিছু আমল সম্পন্ন করতে হয়। বিশেষ করে ৮ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত সময়টি হাজিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা এবং জামারাতে বিভিন্ন আমল পালন করতে হয়।
হজের প্রতিটি দিনের আমল সম্পর্কে আগে থেকে পরিষ্কার ধারণা থাকলে হাজিরা সময়মতো প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। নিচে ৮ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত হজের গুরুত্বপূর্ণ (ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাহ আদায় করার নিয়মাবলি) দিনভিত্তিকভাবে (হজের ৫) দিনে, কোন দিনে কী কী আমল ও করণীয় তুলে ধরা হলো।
হজের আমলগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য যাত্রার আগেই হজের প্যাকেজ, ভিসা, যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় গাইডলাইন সম্পর্কে ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ থেকে হজে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে হজ প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী প্যাকেজের সেবাগুলো সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন।
হজের আগে ভিসা ও যাত্রা-সংক্রান্ত প্রস্তুতিও সম্পন্ন করতে হয়। এ বিষয়ে হজ ভিসা প্রসেসিং সার্ভিস সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন। একইভাবে, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় হজের এয়ার টিকিট সম্পর্কেও আগে থেকে তথ্য জেনে রাখা সুবিধাজনক।
হজের ১ম দিন - ৮ই জিলহজ
ইহরাম অবস্থায় (ফরজ)
মক্কা থেকে মিনায় রওয়ানা হোন।
যোহর:
আজকে মিনায় যোহর।
আছর:
আছর।
মাগরিব:
মাগরিব।
এশা ও ফজরের পড়ুন (সুন্নাত)
মিনায় রাত্রি যাপন করুন (সুন্নাত)
৮ই জিলহজের আমল সম্পন্ন করার পর পরবর্তী দিন ৯ই জিলহজে আরাফাতের ময়দানে যেতে হয়। তাই পরবর্তী দিনের আমল সম্পর্কেও আগে থেকেই ধারণা রাখা প্রয়োজন।
হজের ২য় দিন - ৯ই জিলহজ
৯ই জিলহজ হজের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এ দিনে হাজি সাহেবদের মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে যেতে হয়। আরাফাতের অবস্থানসহ (উকুফে আরাফাত) এ দিনের বিভিন্ন আমল সম্পর্কে আগে থেকে জানা
থাকলে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় আমলগুলো সম্পন্ন করা সহজ হয়। বিস্তারিত জানতে হজের গাইডলাইন দেখে নিতে পারেন।
- ফজরের নামায মিনায় পড়ে আরাফাতের ময়দানে রওয়ানা হোন।
- আরাফাতের সূর্য হেলার পর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ফরজ।
- ওয়াক্তমত যোহর ও আছরের নামায আরাফাতে পড়ুন।
- সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামায না পড়ে মুজদালিফায় রওয়ানা হোন।
- মুজদালিফায় এশার ওয়াক্তে মাগরিব ও এশার নামায এক আজান ও দুইকামতে আদায় করুন (ওয়াজিব)।
- মুজদালিফায় অবস্থান (ওয়াজিব) রাত্রি যাপন করুন (সুন্নাত)।
হজের ৩য় দিন - ১০ই জিলহজ
মুজদালিফায় ফজরের নামাযের কিছুক্ষণ পর মিনার দিকে রওয়ানা।
মিনায় পৌঁছে প্রথমে বৃহৎ শয়তানকে ৭টি পাথর মারুন (ওয়াজিব)।
তারপর কুরবানি করুন (ওয়াজিব)।
তারপর মাথার চুল মুণ্ডানো বা ছাঁটুন (ওয়াজিব)।
তারপর তাওয়াফে জিয়ারতের জন্য মক্কায় যাবেন (ফরজ)।
তাওয়াফ শেষে মিনায় রাত্রি যাপন করুন (সুন্নাত)।
হজের ৪র্থ দিন - ১১ই জিলহজ
তাওয়াফে জিয়ারত ও কুরবানি, চুল মুণ্ডানো বা না কেটে থাকলে আজকে ...
সূর্য ঢলার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে মিনায় অবস্থান করে তিনটি জামারাতের প্রত্যেকটিকে ৭টি করে মোট ২১টি পাথর মারুন। (ওয়াজিব)
প্রথম ছোট শয়তানকে ৭টি পাথর মারুন।
তারপর মেজো শয়তানকে ৭টি পাথর মারুন।
তারপর বড় শয়তানকে ৭টি পাথর মারুন।
মিনায় রাত্রি যাপন করুন (সুন্নাত)।
হজের ৫ম দিন - ১২ই জিলহজ
তাওয়াফে জিয়ারত ও কুরবানি, চুল মুণ্ডানো বা না কেটে থাকলে আজকে তা সম্পন্ন করুন।
সূর্য ঢলার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে মিনায় অবস্থান করে তিনটি জামারাতের প্রত্যেকটিকে ৭টি করে মোট ২১টি পাথর মারুন। (ওয়াজিব)।
প্রথম ছোট শয়তানকে ৭টি পাথর মারুন।
তারপর মেজো শয়তানকে ৭টি পাথর মারুন।
তারপর বড় শয়তানকে ৭টি পাথর মারুন।
সংক্ষিপ্তভাবে
৮ই জিলহজ:
ইহরাম অবস্থায় মক্কা থেকে মিনায় রওয়ানা → মিনায় নামাজ → মিনায় রাত্রি যাপন।
৯ই জিলহজ:
মিনা থেকে আরাফাত → আরাফাতে অবস্থান → যোহর ও আছরের নামাজ → সূর্যাস্তের পর মুজদালিফা → মাগরিব ও এশার নামাজ → মুজদালিফায় অবস্থান ও রাত্রি যাপন।
১০ই জিলহজ:
মুজদালিফা থেকে মিনা → বৃহৎ শয়তানকে ৭টি পাথর → কুরবানি → মাথার চুল মুণ্ডানো বা ছাঁটা → তাওয়াফে জিয়ারতের জন্য মক্কা → তাওয়াফ শেষে মিনায় রাত্রি যাপন।
১১ই জিলহজ:
মিনায় অবস্থান → তিনটি জামারাতে ৭টি করে মোট ২১টি পাথর → প্রথম ছোট, তারপর মেজো, তারপর বড় শয়তান → মিনায় রাত্রি যাপন।
১২ই জিলহজ:
মিনায় অবস্থান → তিনটি জামারাতে ৭টি করে মোট ২১টি পাথর → প্রথম ছোট, তারপর মেজো, তারপর বড় শয়তান।
গুরুত্বপূর্ণ কথা
হজের আমলগুলোর ক্ষেত্রে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত এবং কোন আমল কখন ও কীভাবে করতে হবে—এসব বিষয়ে মাযহাব ও নির্ভরযোগ্য আলেমের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। আমরা ৮ -১২ জিলহজের একটি দিনভিত্তিক গাইড হিসেবে উপস্থাপন করেছি মাত্র।
বাস্তবে হজ পালনের আগে আপনার হজ প্রশিক্ষকের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট আমলগুলোর বিস্তারিত নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো।
নূর হজ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস -এর মতো হজ এজেন্সির কাছ থেকে যাত্রার আগে হজের ধাপ, ইহরাম, আরাফাতের অবস্থান, মুজদালিফা, জামারাত ও তাওয়াফের নিয়ম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেওয়া হাজিদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে।
নূর হজ বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত হজ ভ্রমণ সংস্থা যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর -১০৮৩। প্রতিষ্ঠার সাল থেকে ১০০০০ + হজ যাত্রীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে এবং অত্যান্ত সুনামের সাথে আস্থার প্রতীক হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া হাব সদস্য , এটাব সদস্য হিসাবে , সৌদি এম্বাসি অনুমোদিত এবং সার্টিফিকেট প্রাপ্ত।